Tuesday, July 8, 2014

রমজানে প্রচলিত আমলে কিছু ভুল-ভ্রান্তি



রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের মাস। এই মাস নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ভুল-ভ্রান্তি কাজ করে। যা আমাদের আমলকে হালকা করে ফেলে। কখনো কখনো সঠিক জানার অভাবে অথবা আমল না করার অভাবে আমাদের আমল সমূহ পরিপূর্ণ হয় না। তাই রমজান মাসের প্রচলিত ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে জেনে নিন
ইফতার বিলম্বিত করা:
সুন্নত হলো রোজাদার ওয়াক্ত প্রবেশ নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করবে। সম্পর্কে সাহল ইবনে সা আস-সায়েদি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
মানুষ ততক্ষণ কল্যাণে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইফতার ত্বরান্বিত করবে।’ [বুখারী মুসলিম একমত]
অনুরূপভাবে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,                    তোমরা ইফতারকে ত্বরান্বিত কর এবং সেহরিকে বিলম্বিত করো।’ [সহীহ আল-জামেউস সগীর]
ইফতারের সময় এবং পরে দোয়া করা সম্পর্কে কিছু রোজাদারের অমনোযোগিতা। কারণ ইফতারের সময় দোয়া করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত
আনাস ইবন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
তিনটি দোয়া ফেরত দেয়া হয় না: পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।’ [আহমাদের বর্ণিত, শাইখ আলবানি একে সহিহ বলেছেন]
সহিহ হাদিসে বর্ণিত দোআসমূহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় যা পড়তেন তার মধ্যে হলো:
পিপাসা মিটেছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং সাওয়াব সাব্যস্ত হয়েছে যদি আল্লাহ চান।’ [সহিহ সুনান আবু দাউদ]
আর পানাহারের পর বর্ণিত দোয়ার মধ্যে হলো:
হে আল্লাহ, আমাদেরকে এতে বরকত দিন এবং থেকে উত্তম ভক্ষণ করান।’ [সহিহ সুনান আত-তিরমিযি]
তার আরেকটি বাণী:
আল্লাহর জন্যই সব প্রশংসা; এমন প্রশংসা যা অঢেল, পবিত্র যাতে রয়েছে বরকত; যা বিদায় দিতে পারবো না, আর যা হতে বিমুখ হতে পারবো না, হে আমাদের রব।’ [সহিহ সুনান আত-তিরমিযি]
অথবা তিনি বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে আহার করালেন এবং রিজিক দিলেন যাতে ছিল না আমার পক্ষ থেকে কোনো উপায়, ছিল না কোনো শক্তি-সামর্থ্য।’ [সহিহ সুনান আত-তিরমিযি]
যিনি তাদের ইফতার করিয়েছেন তার জন্য দোয়া করা সম্পর্কে বিমুখতা:
কারণ রোজাদার যদি কোনো সম্প্রদায়ের কাছে ইফতার করে তবে সুন্নত হলো তাদের জন্য দোয়া করা যেরূপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেন কোনো সম্প্রদায়ের কাছে ইফতার করলে; তিনি বলতেন,
আপনাদের কাছে রোজাদাররা ইফতার করুন, আপনাদের খাবার যেন সৎলোকেরা খায়, আর আপনাদের জন্য ফিরিশতারা অবতীর্ণ হন।’ [সহিহ আল-জামেউস সগীর]
অথবা বলতেন:
হে আল্লাহ, যে আমাকে আহার করাবে আপনি তাদেরকে আহার করান এবং যে আমাকে পান করাবে আপনি তাদেরকে পান করান।’ [মুসলিম]
অথবা তিনি বলতেন:
হে আল্লাহ, আপনি তাদেরকে যে রিজিক দান করেছেন তাতে তাদের জন্য বরকত দিন এবং তাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, আর তাদের প্রতি দয়া করুন।’ [মুসলিম]

No comments:

Post a Comment