হাদিসের আলোকে ঈদের দিনে বর্জনীয় কাজ সমূহ
ঈদ মুসলিম জাতির গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আর আমাদের রয়েছে
নিজস্ব সংস্কৃতি। আমরা ঈদ পালনে অনেকে ইসলাম সমর্থন করে না এমন সব সংস্কৃতিতে
নিমজ্জিত হচ্ছি। যা আমাদের বর্জন করা দরকার। ঈদে বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হল :
ঈদের দিন সিয়াম পালন করা : ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে ঈদের দিনের কাজসমূহ যথাযথ পালন করা যাবে না। সেজন্য হাদিসে ঈদের দিন সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। সহীহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’ [সহীহ মুসলিম : ২৭৩০]
বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন : বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ [আবু দাউদ : ৪০৩৩]
নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধারণ : পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও সাজ-সজ্জার ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর বেশ ধারণ ও নারী পুরুষের বেশ ধারণ হারাম। ঈদের দিনে এ কাজটি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। হাদিস থেকে জানা যায়Ñ ইবনে আব্বাস রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন।’ [আবু দাউদ : ৪০৯৯]
নারীদের খোলা-মেলা অবস্থায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া : ঈদের দিনে নারীদের বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া যাবে না। এ বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মত নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ [সূরা আহযাব : ৩৩] নারীগণ পর্দা পালন করে বের হবে। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামবাসী দু’ধরনের লোক, যাদের আমি এখনও দেখতে পাইনি। একদল লোক যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা লোকজনকে প্রহার করবে। আর এক দল এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ মানুষের মত হবে, অন্যদের আকর্ষণ করবে ও অন্যরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না, যদিও তার সুগন্ধি বহু দূর থেকে পাওয়া যায়। [সহীহ মুসলিম : ৫৭০৪]
গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখা : ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন গান বাজনা যা ইসলাম অনুমোদন করে না, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’ [সহীহ বুখারি : ৫৫৯০]
বেহুদা কাজে সময় ব্যয় করা : অনেকে বেহুদা কাজে ঈদে রাত জাগরণ ও দিনে বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করে থাকে। সেজন্য বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা দরকার। আল কুরআনে মুমিনের গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর যারা অনর্থক কথা-কর্ম থেকে বিমুখ থাকে।’ [সূরা মুমিনুন : ০৩]
জামায়াতের সাথে ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা : ঈদের আনন্দে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী।’ [সূরা আল মাউন : ৪-৫] ঈমানদার বান্দাহগণ সালাত আদায়ে কোনো গাফলতি করে না। কুরআনের ঘোষণা, ‘আর যারা নিজেদের সালাতের হিফাযত করে।’ [সূরা মায়ারিজ : ৩৪]
অবাধে নারীদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ : দেখা যায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই গুনাহের কাজটা ঈদের দিনে বেশি করা হয়। নিকট আত্মীয়দের মাঝে যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ শরিয়ত অনুমোদিত নয়, তাদের সাথে অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়। উকবাহ ইবনে আমের রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখবে।’ মদিনার আনসারদের মধ্য থেকে এক লোক প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল! দেবর-ভাসুর প্রমুখ আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি উত্তরে বললেন, ‘এ ধরনের আত্মীয়-স্বজন তো মৃত্যু।’ [সহীহ বুখারি : ৫২৩২]
অপচয় ও অপব্যয় করা : ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সব কিছুতেই অপচয় ও অপব্যয় করা হয়। অথচ কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা কোনভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ [সূরা বনি ইসরাঈল : ২৬-২৭] আরো বলা হয়েছে, ‘এবং তোমরা খাও, পান করো এবং অপচয় করো না।’ [সূরা আরাফ : ৩১]
ঈদের দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা : অনেকে এ দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করে থাকেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম থেকে সাব্যস্ত হয়নি। অতএব ঈদের দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা যাবে না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে এমন ইবাদাত করল যাতে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে।’ [সহীহ মুসলিম : ৪৫৯০]
জুয়া খেলা ও আতশবাজি করা : এগুলো শরিয়ত বিরোধী কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ [সূরা মায়িদাহ : ৯০]
মানুষকে কষ্ট দেয়া : ঈদের দিনে অনেকে এমন কাজ করেন যা মানুষকে কষ্ট দেয়। যেমন, রাস্তা আঁকিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়া, এমন আনন্দ করা যাতে অন্যরা কষ্ট পায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জিহবা থেকে অন্যরা নিরাপদ।’ [সহীহ বুখারী : ৬৪৮৪]
ঈদের সালাত আদায় না করে কেবল আনন্দ ফুর্তি করা : অনেকে ঈদের আনন্দে মাতওয়ারা হয়ে নতুন জামা-কাপড় পরিধান, সেমাই, ফিরনী ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঈদের সালাত আদায় করার কথা ভুলে যান। অথচ এই দিনে ঈদের সালাত আদায় করা হচ্ছে মূল করণীয়।
ঈদের দিন সিয়াম পালন করা : ঈদের দিন সিয়াম পালন করলে ঈদের দিনের কাজসমূহ যথাযথ পালন করা যাবে না। সেজন্য হাদিসে ঈদের দিন সিয়াম পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। সহীহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’ [সহীহ মুসলিম : ২৭৩০]
বিজাতীয় আচরণ প্রদর্শন : বিজাতীয় আচরণ মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদে, চাল-চলনে, শুভেচ্ছা বিনিময়ে অমুসলিমদের অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছে মুসলমানদের অনেকেই। আবদুল্লাহ বিন আমর রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ [আবু দাউদ : ৪০৩৩]
নারী-পুরুষ একে অপরের বেশ ধারণ : পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও সাজ-সজ্জার ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর বেশ ধারণ ও নারী পুরুষের বেশ ধারণ হারাম। ঈদের দিনে এ কাজটি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। হাদিস থেকে জানা যায়Ñ ইবনে আব্বাস রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষকে অভিসম্পাত করেছেন।’ [আবু দাউদ : ৪০৯৯]
নারীদের খোলা-মেলা অবস্থায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া : ঈদের দিনে নারীদের বেপর্দা অবস্থায় রাস্তাঘাটে বের হওয়া যাবে না। এ বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন মুর্খতার যুগের মত নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ [সূরা আহযাব : ৩৩] নারীগণ পর্দা পালন করে বের হবে। আবু হুরায়রা রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামবাসী দু’ধরনের লোক, যাদের আমি এখনও দেখতে পাইনি। একদল লোক যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, তা দিয়ে তারা লোকজনকে প্রহার করবে। আর এক দল এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ মানুষের মত হবে, অন্যদের আকর্ষণ করবে ও অন্যরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, তাদের মাথার চুলের অবস্থা উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না, যদিও তার সুগন্ধি বহু দূর থেকে পাওয়া যায়। [সহীহ মুসলিম : ৫৭০৪]
গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখা : ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন গান বাজনা যা ইসলাম অনুমোদন করে না, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে এমন একটা দল পাওয়া যাবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’ [সহীহ বুখারি : ৫৫৯০]
বেহুদা কাজে সময় ব্যয় করা : অনেকে বেহুদা কাজে ঈদে রাত জাগরণ ও দিনে বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করে থাকে। সেজন্য বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা দরকার। আল কুরআনে মুমিনের গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর যারা অনর্থক কথা-কর্ম থেকে বিমুখ থাকে।’ [সূরা মুমিনুন : ০৩]
জামায়াতের সাথে ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করা : ঈদের আনন্দে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাতে অমনোযোগী।’ [সূরা আল মাউন : ৪-৫] ঈমানদার বান্দাহগণ সালাত আদায়ে কোনো গাফলতি করে না। কুরআনের ঘোষণা, ‘আর যারা নিজেদের সালাতের হিফাযত করে।’ [সূরা মায়ারিজ : ৩৪]
অবাধে নারীদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ : দেখা যায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই গুনাহের কাজটা ঈদের দিনে বেশি করা হয়। নিকট আত্মীয়দের মাঝে যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ শরিয়ত অনুমোদিত নয়, তাদের সাথে অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়। উকবাহ ইবনে আমের রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখবে।’ মদিনার আনসারদের মধ্য থেকে এক লোক প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল! দেবর-ভাসুর প্রমুখ আত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি উত্তরে বললেন, ‘এ ধরনের আত্মীয়-স্বজন তো মৃত্যু।’ [সহীহ বুখারি : ৫২৩২]
অপচয় ও অপব্যয় করা : ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে এ উপলক্ষে সব কিছুতেই অপচয় ও অপব্যয় করা হয়। অথচ কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা কোনভাবেই অপব্যয় করো না, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।’ [সূরা বনি ইসরাঈল : ২৬-২৭] আরো বলা হয়েছে, ‘এবং তোমরা খাও, পান করো এবং অপচয় করো না।’ [সূরা আরাফ : ৩১]
ঈদের দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা : অনেকে এ দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করে থাকেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম থেকে সাব্যস্ত হয়নি। অতএব ঈদের দিনকে কবর যিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করা যাবে না। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে এমন ইবাদাত করল যাতে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে।’ [সহীহ মুসলিম : ৪৫৯০]
জুয়া খেলা ও আতশবাজি করা : এগুলো শরিয়ত বিরোধী কাজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ [সূরা মায়িদাহ : ৯০]
মানুষকে কষ্ট দেয়া : ঈদের দিনে অনেকে এমন কাজ করেন যা মানুষকে কষ্ট দেয়। যেমন, রাস্তা আঁকিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়া, এমন আনন্দ করা যাতে অন্যরা কষ্ট পায়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম ঐ ব্যক্তি যার হাত ও জিহবা থেকে অন্যরা নিরাপদ।’ [সহীহ বুখারী : ৬৪৮৪]
ঈদের সালাত আদায় না করে কেবল আনন্দ ফুর্তি করা : অনেকে ঈদের আনন্দে মাতওয়ারা হয়ে নতুন জামা-কাপড় পরিধান, সেমাই, ফিরনী ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, ঈদের সালাত আদায় করার কথা ভুলে যান। অথচ এই দিনে ঈদের সালাত আদায় করা হচ্ছে মূল করণীয়।
ঈদ একটি ইবাদাত। আনন্দ ও ফুর্তি করার মাধ্যমেও যে
ইবাদাত পালন করা যায়, ঈদ তার অন্যতম উদাহরণ। শরীয়াহ সম্মতভাবে আনন্দ প্রকাশ করার
বিষয়ে কুরআনে এসেছে, ‘বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত, সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা
খুশি হয়। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম।’ [সূরা ইউনুস : ৫৮]
আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ এবং শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা ঈদ উদ্যাপন করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।’ [সূরা আল বাকারাহ : ১৮৫]
আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ এবং শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা ঈদ উদ্যাপন করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে আল কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।’ [সূরা আল বাকারাহ : ১৮৫]
সংক্ষেপে বর্জনীয় কাজ সমূহ :
১। দুর্গন্ধময় বস্ত্র পরিধান করা।
২। ধুমপান করা।
৩। মহিলাদের বেপর্দাভাবে মেহমানদারদের আপ্যায়ন করা, সাজসজ্জা করে বেগানা পুরুষদের সামনে যাওয়া, সেজেগুজে বেপর্দাভাবে বাহিরে বের হওয়া ও অযথা বাহিরে ঘোরাফেরা করা।
৪। নারী-পুরুষের অবাধে পর্দাহীন ভাবে কোথাও একত্রিত হওয়া বা বেপর্দাভাবে ঈদ উদযাপন বা উৎসব অনুষ্ঠান করা।
৫। কোন মানুষ বা প্রাণীর ছবি তোলা।
৬। গান-বাজনা করা বা শোনা , সিনেমা দেখা।
৭। ইসলামের হুকুম লংঘন হয়- এমন খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করা বা দেখা ও সহযোগীতা করা।
বস্তুত এসব ইসলাম বিরোধী কাজের দ্বারা ঈদের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে তাঁর হুকুমের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষনা করা হয়। তাই আমাকে আপনাকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
১। দুর্গন্ধময় বস্ত্র পরিধান করা।
২। ধুমপান করা।
৩। মহিলাদের বেপর্দাভাবে মেহমানদারদের আপ্যায়ন করা, সাজসজ্জা করে বেগানা পুরুষদের সামনে যাওয়া, সেজেগুজে বেপর্দাভাবে বাহিরে বের হওয়া ও অযথা বাহিরে ঘোরাফেরা করা।
৪। নারী-পুরুষের অবাধে পর্দাহীন ভাবে কোথাও একত্রিত হওয়া বা বেপর্দাভাবে ঈদ উদযাপন বা উৎসব অনুষ্ঠান করা।
৫। কোন মানুষ বা প্রাণীর ছবি তোলা।
৬। গান-বাজনা করা বা শোনা , সিনেমা দেখা।
৭। ইসলামের হুকুম লংঘন হয়- এমন খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করা বা দেখা ও সহযোগীতা করা।
বস্তুত এসব ইসলাম বিরোধী কাজের দ্বারা ঈদের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে তাঁর হুকুমের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষনা করা হয়। তাই আমাকে আপনাকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিৎ।